কঠোর লকডাউনেও শিল্প-কারখানাসহ যা খোলা থাকছে

কোভিড-১৯ সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ১৪ এপ্রিল থেকে সারা দেশে সাত দিনব্যাপী ‘কঠোর লকডাউন’ শুরু হচ্ছে।  এই সময়ে গণপরিবহন ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও উৎপাদনমুখী কারখানা খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা বিধিনিষেধের প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  এতে বলা হয়েছে— ১৪ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে ২১ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত এসব নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।
এই সময় সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস/আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। 

তবে শিল্পকারখানা স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু থাকবে। নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাপনায় শ্রমিকদের আনা-নেওয়া নিশ্চিত করতে হবে।

লকডাউনে গার্মেন্টস, শিল্পপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকছে। জরুরি সেবা চালু থাকবে।

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে রোগী ও মৃত্যু লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকায় এক সপ্তাহের এই ‘কঠোর লকডাউনের’ ঘোষণা দিল সরকার। 

পোশাক শিল্পমালিকরা ‘লকডাউনের’ মধ্যেও কারখানা খোলা রাখার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএসহ আরও কয়েকটি সংগঠন রোববার ঢাকায় এক যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেও এ দাবি তুলে ধরে।

লকডাউনের প্রস্তুতিতে রোববার বিকালে সরকারের কয়েকটি দপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতাদের বৈঠক হয়। সেখানে উৎপাদনমুখী কারখানা চালু রাখার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। 

এর আগেও প্রথম দফার ‘লকডাউনে’ শিল্পকারখানা খোলা ছিল। 

দেশে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সরকার সারা দেশে এক সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধ জারি করে গত ৪ এপ্রিল। গত ৫ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে শুরু হওয়া সাত দিনের লকডাউন বা বিধিনিষেধের মেয়াদ ১১ এপ্রিল রাত ১২টায় শেষ হয়। 

এ নিয়ে গত ৪ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর পর তা ১৪ এপ্রিল ভোর ৬টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

তবে শুরু থেকেই লকডাউন প্রত্যাহারের দাবিতে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ করেন ব্যবসায়ীরা।