পেয়ার কিয়া তো ডারনা কেয়া!

কয়দিন  ধইরা ভাবতাছি একখান পিরিত করমু । ছ্যাবড়া থোবড়া ছুরতের আবুইল্লা ; অর-ও নাকি গেরালফ্রেন্ড আছে । তাও একটা না, দুই দুইডা । হালায় মোবাইল ইউজ করে তিনডা । একটায় ছকিনার লগে কথা কয় , দুইনম্বরটায় জরিনার লগে । আর তিননম্বরডা অর কামের ফোন । কাম তো হালারে কিছুই করতে দেহিনা , খালি হারাক্ষণ ফোনে কথা আর কথা!  অরে দেইখ্যা ইদানিং আমারও পিরিত করবার সাধ জাগছে । আমি এইবার একখান পিরিত করমুই করমু ।

আমি মজনু ।  বাপ-মায় শখ কইরা এই নাম রাখছে । ছোডকালে   ছোড-বড় হগলতেই আমার নাম লইয়া হাসি-মশকরা কইরতো । কইতো , কিরে মজনু ! তোর লাইলি কোনে ? লইজ্জায় আমি লাল হইয়া যাইতাম । 
তখন থেইকা লাইলি নামের কোন মাইয়ারে
দেখলেই কেমন নিজের নিজের মনে হইতো। কিন্তু সাহস কইরা কাউরেই মনের কথাখান কইবার পারি নাই। তবে এইবার আর ভয় নাই । পেয়ার কিয়া তো ডারনা কিয়া! পাশের বাসার মর্জিনারে আমার মনের কথাডা কইয়াই ফালামু। 

গার্মেন্টসে কাম করে মর্জিনা। গ্রামের বাড়ী নেত্রকোনা । আমাগো পাশের বাসায় ভাড়া থাহে । মাইয়্যার গায়ের রং একটু কালা , মাগার চেহারাখান মাশাল্লা ! পেরাই গার্মেন্টসে যাইতে আইতে অর লগে আমার দেহা অয়। কেমুন কেমুন কইরা যেন তাকায়। আমি তাকাইবার পারিনা। শরমে আমার চোখ বুঁইজ্জা আহে। আমার আবার অতি শরম-দোষ। আম্বিয়া খালায় কয়, পোলা মাইনসের অত শরম ভালানা। শরম হইলো গিয়া মাইয়াগো গহনা। আমি কই, ও খালা ! শরম আইলে আমি কি করমু?
আম্বিয়া খালা কিছু কয়না। দুইডা পান এক সাথ কইরা মুখে দিয়া চিবায় আর হাসে। আমি এই হাসির মানে খুঁইজা পাইনা। আমার শরমও আর কাটেনা।

২.

আইজ ফেরবুয়ারী মাসের ১৪ তারিখ। সকাল থেইকা দেহি, রাস্তা-ঘাটে পোলা-মাইয়াগো হাতে নানান কিসিমের ফুল আর ফুল। গতরে নয়া নয়া জামাকাপড়। ঘটনাডা কি? জসিম ভাইয়ের  দোকানে বইসা চা খাইতে খাইতে ভাবতাছিলাম। 

এমুন সময় কইত্থেইকা আবুইল্লা আইসা হাযির। পোলায় দেহি চিপা প্যান্টের লগে নতুন একখান গেঞ্জিও লাগাইছে। বোধহয় অক্ষনেই শেভ কইরা আইলো। গাল দুইডা চক্ চক্ করতাছে। আমি কইলাম, 
- কিরে আবুইল্লা, এমন মাঞ্জা মাইরা আইলি; ঘটনাডা কি?
- জানস না, আইজ ভালবাসা দিবস! ছকিনা আইতাছে। ওরে লইয়া ঘুরবার যামু। 

ভালবাসা দিবস বইলা কিছু আছে এইডা আমার জানা আছিলনা। জানা থাকবো কেমনে? যার জীবনে ভালবাসাই নাই,  সে কেমনে জানবো ভালবাসা দিবসের খবর ! মনে মনে কইলাম, আবুইল্লা কত ইসমার্ট!  কত কিছুর খবর জানে ! হালায় চিজ্ একখান! 

মুখে কইলাম, 
- যা ! যা !  ঘুইরা আয় গিয়া।  তুইই তো ঘুরবি। তোর এহন ঘুরার দিন। আমাগো হালায় প্রেমিকাও নাই, তাই কপালে ঘুরা-ফেরাও নাই। 

আবুইল্লা আর কিছু কইলোনা। মুচকি হাসি দিয়া দোকান থেইকা বাইর হইয়া গেলো। আমিও আর কিছু না কোইয়া অর গতিপথ লক্ষ্য কইরা তাকাইয়া রইলাম। তখনি হঠাৎ  বুকের মধ্যে কোনহানে যেন সুখের মতন চিন্ চিন্ কইরা উইঠলো। এ আমি কি দেখতাছি! আবুইল্লার উল্টা দিক থেইকা এইডা কে আইতাছে?  মর্জিনা না? 

হ, মর্জিনাই।  স্পষ্ট দেখা যাইতাছে।.... (চলবে)