মির্জা ফখরুলের ৭৫তম জন্মদিন

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জীবনে বিশেষ দিন আজ।  আজকেই এই দিনে পৃথিবীর আলো দেখেছেন এই রাজনীতিক।  আজ তার পঁচাত্তরতম জন্মদিন। 

বিএনপির মহাসচিব আড়ম্বরপূর্ণভাবে জন্মদিন কখনোই পালন করেন না।  এদিন দলীয় নেতারা শুধু তাকে শুভেচ্ছা জানান।  জীবনের পচাত্তরতম মাইলফলকে ফখরুলের জন্য বিশেষ কোনো আয়োজন থাকবে না।

বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান জানান, ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জন্মগ্রহণ করেন।

মির্জা ফখরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার সময়েই ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন।’৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থানের সময় ছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি। 

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে হয়ে যান সরকারি চাকুরে। অর্থনীতির প্রভাষক হিসেবে ঢাকা কলেজে শিক্ষকতা জীবন শুরু করলেও কয়েকটি কলেজ ঘুরে পরে সরকারের পরিদর্শন ও আয়-ব্যয় পরীক্ষণ অধিদফতরে নীরিক্ষক হিসেবে কাজ করেন।  তবে সাত বছরের মধ্যে রাজনীতিতে আবারও ফিরে আসেন। 

জিয়াউর রহমান সরকারের উপ-প্রধানমন্ত্রী এস. এ. বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে নিজ জেলায় ফিরে আবারও শিক্ষকতা পেশা শুরু করেন। ১৯৮৮ সালে আবারও শিক্ষকতা ছেড়ে সার্বক্ষণিক রাজনীতিতে ফেরার প্রস্তুতি নেন। নির্বাচিত হন ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান। এক বছর পরে যোগ দেন বিএনপিতে। 

১৯৯১ ও ১৯৯৯ সালে বিএনপির টিকিটে জাতীয় সংসদে নির্বাচন করে জয় না পেলেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ২০০১ সালে। চারদলীয় জোট সরকারের এই শাসনামলে প্রথমে কৃষি মন্ত্রণালয় ও পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।    

মির্জা ফখরুল বিএনপির সহযোগী সংগঠন কৃষক দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন দীর্ঘদিন।  পরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও পরে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালে বিএনপির কাউন্সিলে তাকে মহাসচিব করা হয়। 

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়ার একটি আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হলেও সংসদে যোগ দেননি ফখরুল।