অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন খুলনার পাটকল শ্রমিকরা

১১ দফা দাবিতে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছেন খুলনাঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯ পাটকলের শ্রমিকরা।খুলনা অঞ্চলে রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলের মধ্যে খুলনায় রয়েছে সাতটি ও যশোরে দু’টি। খুলনায় থাকা পাটকলগুলো হলো- ক্রিসেন্ট জুট মিল, খালিশপুর জুট মিল, দৌলতপুর জুট মিল, প্লাটিনাম জুট মিল, স্টার জুট মিল, আলিম জুট মিল ও ইস্টার্ন জুট মিল। আর যশোরের দু’টি জুট মিল হলো- কার্পেটিং ও জেজেআই।

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের ডাকে মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) শুরু হওয়া অনশনে বুধবার (১১ ডিসেম্বর) সকালে দুই শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তারা হলেন- প্লাটিনাম জুট মিলের শ্রমিক হিরন ও খায়ের।

তাদেরকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে বুধবার সকালে  জানিয়েছেন রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক খলিলুর রহমান।

তিনি বলেন, প্রচণ্ড শীত ও ক্ষুধার কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সমস্যা সমাধানে ঢাকায় মঙ্গলবার বৈঠক হলেও তা ফলপ্রসূ না হওয়ায় শ্রমিকরা অনশন অব্যাহত রেখেছেন। যতই কষ্ট হোক, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনশন চলবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।

তিনি জানান, শ্রমিকরা নিজ নিজ মিল গেটের সামনে এ কর্মসূচি পালন করছেন। জুট মিলগুলোতে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক রয়েছেন।

এছাড়া স্টার জুটমিলের শ্রমিক বাবুল, ক্রিসেন্ট জুটমিলের শ্রমিক সুলতান অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সুলতানের স্যালাইন চলছে।

কাঁথা-বালিশ, লেপ, কম্বল নিয়ে আমরণ অনশন পালনকারী খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের শ্রমিকরা রাতযাপন করেন। শ্রমিকদের এ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন তাদের পরিবারের সদস্যরাও। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি থেকে না ফেরার ঘোষণাও দিয়েছেন তারা।

শ্রমিকরা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন থেকে বকেয়া মজুরি পরিশোধ ও মজুরি কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের সিদ্ধান্ত বাতিল ও অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের পিএফ ও গ্র্যাচুইটির টাকা দেওয়াসহ ১১ দফার দাবি জানিয়ে আসছি। দীর্ঘদিন আন্দোলন চললেও এ পর্যন্ত শ্রমিকদের দাবি দাওয়া পূরণ হয়নি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরণ অনশন কর্মসূচি চলবে।