শ্যামলী পরিবহনের পরিচালকের বক্তব্যে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের আভাস

অসাম্প্রদায়িকতার অনেক অর্থ হতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশে এর একমাত্র অর্থ হলো হিন্দু, বোদ্ধ, খ্রিস্টান ও মুসলমানদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবেশ ও সহাবস্থানমূলক বসবাস। এই অর্থে বাংলাদেশ পুরোদস্তুর অসাম্প্রদায়িক একটি দেশ, এ বিষয়ে দেশের কোন হিন্দু, বোদ্ধ, খ্রিস্টান বা মুসলমানের সন্দেহ থাকার কথা না। সেই সাথে ধর্ম, বর্ণ, জাতি, গোষ্ঠীর উর্ধ্বে উঠে প্রতিটি নাগরিকই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে বলেই আমাদের অগাধ আস্থা ও বিশ্বাস। 

কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে ফেসবুকের টাইম লাইনে ঘুরে বেড়ানো একটি ভিডিও আমাদের আস্থা ও বিশ্বাসে চিড় ধরিয়েছে ইতোমধ্যেই। নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে বিশেষ একটি ধর্মের অনুসারীদের দেশপ্রেম ও দেশাত্মবোধ নিয়ে। সত্যিই কি কোন মহল দেশের খেয়ে, দেশের পরে, দেশের বিরুদ্ধেই লিপ্ত হয়েছে গভীর কোন ষড়যন্ত্রে? এই প্রশ্ন এখন একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায়না।

ভিডিওটিতে দেখা যায় জনৈক ভদ্রলোক বাংলাদেশের কোন একটি মন্দিরে পূজোর অনুষ্ঠানে প্রদত্ত বক্তব্যের এক পর্যায়ে বলছেন, '' তিনবার ভারতে চলে গেছি, যতদিন ভারত বাংলাদেশ এক না হবে তত দিন বাংলাদেশে আসবোনা বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।'' 
এ কথা বলার অবকাশ রাখেনা ভদ্রলোকটি কোন ধর্মের অনুসারী। কিন্তু তার ধর্ম নিয়ে আমাদের কোন আগ্রহ নেই। আমাদের চিন্তার বিষয় হলো, তিনি যে ধর্মেরই হোন বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে বাংলাদেশেরই স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কথা বলার স্পর্ধা কোথায় পেলেন তিনি? দেশের বিরুদ্ধে এই গভীর ষড়যন্ত্রে তিনি কি একা, না তার পিছনে বৃহৎ কোন শক্তি কাজ করছে তা এখনি খতিয়ে দেখা দরকার। উক্ত ব্যক্তিকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই মূল হোতাদের ধরা যাবে বলে আমরা মনে করছি।

অতএব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আমাদের অনুরোধ বিষয়টি বিবেচনায় এনে শ্যামলী পরিবহনের ওই পরিচালককে দ্রুত গ্রেফতার করে তার বক্তব্যে সৃষ্ট রহস্যের জট উন্মোচন করুন।