হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জের একটি রিসোর্টে দ্বিতীয় স্ত্রীসহ হেফাজত নেতা মামুনুল হককে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।  ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, মামুনুল নারীকে নিয়ে রিসোর্টে গিয়ে আটকা পড়ে তাকে দ্বিতীয় স্ত্রী বানিয়ে ফেলেছেন। তবে হেফাজত নেতাকর্মীরা বলছেন, মামুনুল বৈধ স্ত্রীকে নিয়ে রিসোর্টে গেছেন, এতে দোষের কিছু নেই।  মামুনুলের ইমেজ প্রশ্নবিদ্ধ করতে সরকার ষড়যন্ত্র করে তাকে ফাসাতে চেয়েছে। 

 

হেফাজত নেতাকে নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনার মধ্যে এ নিয়ে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ নেতারা বৈঠক করেছে। সেখানে তারা বলেছেন, ‘মাওলানা মামুনুল হক গত ৩ এপ্রিল তার স্ত্রীকে নিয়ে সোনারগাঁও রির্সোটে গিয়েছিলেন। ইসলামী শরিয়তের আলোকে তার বিবাহ পরিপূর্ণ শুদ্ধ মর্মে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। এ নিয়ে বিভ্রাতির কোনো অবকাশ নেই।

সোমবার দুপুরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ঢাকাস্থ কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দের জরুরি বৈঠক জামিয়া রাহমানিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়। নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল হামিদ পীর সাহেব মধুপুরীর সভাপতিত্ব করেন এই সভার। সভায় নেতৃবৃন্দ বলেছেন, দেশের যে কোনো নাগরিক তার স্ত্রী-পরিবার নিয়ে যেকোনো স্থানে যাওয়ার অধিকার রাখে। কিন্তু মাওলানা মামুনুল হকের মতো পরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তির ওপর সন্ত্রাসীরা যেভাবে ঝাপিয়ে পড়েছে, আমরা তার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি এবং অভিযুক্তদেরকে বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।

সভায় উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা নুরুল ইসলাম, উপদেষ্টা মাওলানা আবুল কালাম, নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল আউয়াল, মাওলানা মাহফুজুল হক, অধ্যাপক আহমদ আব্দুল কাদের, মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা ফজলুল করিম কাসেমী, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, সহকারী মহাসচিব মাওলানা খুরশিদ আলম কাসেমী, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা হাসান জামিল, মাওলানা জসিমউদ্দীন, মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মাওলানা মুসা বিন ইজহার, অর্থ সম্পাদক মাওলানা মুনির হোসাইন কাসেমী, ঢাকা মহানগর সহ-সভাপতি মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, সহ-প্রচার সম্পাদক ফয়সাল আহমদ, সহ-অর্থ সম্পাদক মাওলানা জাকির হোসাইন কাসেমী, সহকারী সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাওলানা গাজী ইয়াকুব, ঢাকা মহানগর সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, মাওলানা ফজলুর রহমান প্রমুখ।

তারা আরও বলেন, জাতীয় সংসদে একজন নাগরিকের ব্যক্তিগত বিষয়কে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, এটা জনগণ কখনোই আশা করেনি। আমরা এ বক্তব্য প্রত্যাহার করার আহ্বান জানাই। 


নেতারা আরও বলেছেন, গত ২৬, ২৭, ২৮ মার্চ বাইতুল মোকাররম, হাটহাজারী, বাহ্মণবাড়িয়া, মুন্সিগঞ্জসহ সারা দেশে হেফাজতকর্মী ও প্রতিবাদী মানুষের ওপর হামলা করা হয়েছে। এতে বি-বাড়িয়া ও হাটহাজারীতে ২০ জন শাহাদাৎ বরণ করেছে। এসব হত্যাকাণ্ড ও হামলার বিষয়ে বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে দোষীদেরকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে আমাদের অসংখ্য কর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদেরকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।