নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে নতুন করে শপথ নেওয়ার আহ্বান ইলিয়াস কাঞ্চনের

স্বাধীনতার ৫০ বছরেও দেশের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা নিরাপদ না হওয়ায় নতুন করে শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নিরাপদ সড়ক চাই-এর (নিসচা) প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।

তিনি বলেন, কীভাবে স্বাধীনতার পূর্ণ সুফল ঘরে আসবে, সে ব্যাপারে আজ নতুন করে শপথ নিতে হবে। নিরাপদ সড়কের দাবি কীভাবে বাস্তবায়ন হয়, সে ব্যাপারেও আমাদের শপথ নিতে হবে। নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়ন হলে স্বাধীনতার সুফলও ঘরে আসবে। এ জন্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও এ আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। 

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বিজয়ের ৫০ বছরেও স্বাধীনতার পূর্ণ সুফল যেমন আমরা ভোগ করতে পারিনি, তেমনি নিরাপদ সড়কের দাবিতে আমাদের যে আন্দোলন তাও অর্জিত হয়নি। ২৮ বছর ধরে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন চলে আসছে। কিন্তু দেশের সড়ক এখনও নিরাপদ হয়নি। 

বুধবার স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক এক সভায় এ কথা বলেন তিনি। রাজধানীর কাকরাইলে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সন্ধ্যায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরিস্থিতির কারণে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধির কথা বিবেচনা করে সভায় কমিটির সদস্যদের ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকার সুযোগ রাখা হয়। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন সভায় সভাপতিত্ব করেন। 

নিসচা সভায় ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করবে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও শাখা অফিসে এ উপলক্ষ্যে কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। 

মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে যারা জীবন দিয়েছেন, ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে যাদের হত্যা করা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, স্বাধীনতার একটি সুপরিকল্পিত চিন্তাধারা নিয়ে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের পথচলা শুরু করা হয়েছে। ডিসেম্বর বিজয়ের মাস। বিজয়ের পরও অনেক মুক্তিযোদ্ধা সড়কে প্রাণ হারিয়েছেন। সড়কে যাতে মুক্তিযোদ্ধাসহ কারও মৃত্যু না হয় সেজন্য ১ ডিসেম্বর নিসচার আত্মপ্রকাশ। 

নিরাপদ সড়কের আন্দোলনে বাধা আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি অপশক্তি নিরাপদ সড়কের দাবিতে আমাদের আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য অপচেষ্টা করে যাচ্ছে। তিনি সবাইকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। 

সভায় উপস্থিত ছিলেন নিসচার যুগ্ম মহাসচিব লিটন এরশাদ, সাদেক হোসেন বাবুল, লায়ন গণি মিয়া বাবুল, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম আজাদ হোসেন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক মিরাজুল মইন জয়, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক মঞ্জুলি কাজী, প্রচার সম্পাদক একেএম ওবায়দুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক ফিরোজ আলম মিলন, অর্থসম্পাদক আসাদুর রহমান, সহসাংগঠনিক সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মিশু, আব্দুর রহমান, তৌফিক আহসান টিটু, যুববিষয়ক সম্পাদক নাহিদ মিয়া, কার্যকরী সদস্য সালাম মাহমুদ, মহসিন খান, কাইয়ুম, নাসিম রুমি, আলাল উদ্দিন, সেকান্দার আলম রিন্টু, জামাল মণ্ডল প্রমুখ।