অথচ ইসলামে প্রাণীর ছবি আঁকা হারাম!

শোকের মাস আগষ্ট। ১৯৭৫ সালে এই মাসের ১৫ তারিখে বঙ্গবন্ধু সহ তাঁর পরিবারের প্রায় সবাইকে অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে ঘাতকের দল। তারা শুধু বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেনি, হত্যা করেছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি এবং বাঙালি জাতির পিতাকে। বঙ্গবন্ধুকে হারিয়ে বাংলাদেশ,  বাঙালি জাতি ও সমগ্র বিশ্ব যা হারিয়েছে, তা আর কখনোই পূরণ হবার নয়। 

প্রতিবছর বাংলাদেশে ঘটা করেই ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়। এ দিনে দেশের প্রায় সব স্থানে  বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরবারের শহীদ সদস্যগণের রুহের মাগফেরাত কামনায় বিভিন্ন দোয়া-মাহফিল, আলোচনা সভা ও ভোজ-অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ বছর জাতিসঙ্ঘের অধিবেশনেও শোক দিবস পালন করা শুরু হয়েছে।

কিন্ত দুঃখের ব্যাপার হলো, কিছু অতি উৎসাহী মানুষ শোক দিবস পালন করতে গিয়ে এমন সব কর্মকাণ্ড করছেন যার দ্বারা বঙ্গবন্ধুর রুহের মাগফেরাত না হয়ে উল্টো  বিপরীত কিছু না হয়ে যায়, সেই আশঙ্কায় আমাদের মন দুরুদুরু কাঁপছে।

সম্প্রতি  ফেসবুকের একটি পোস্টে দেখা যায় একদল লোক মসজিদের মিম্বরের উপরে বঙ্গবন্ধুর ছবি সংবলিত ব্যানার টানিয়ে সম্ভবত কুরআন খতমের আয়োজন করছেন, অথচ ইসলামে প্রাণির ছবি আঁকা বিলকুল হারাম। 
সে না হয় বুঝলাম, যাঁর রুহের মাগফেরাতের জন্য কুরআন খতম, ব্যানারে তাঁর ছবি আকঁতেই হবে(?),কিন্তু সেই ছবি স্বয়ং আল্লাহর ঘর মসজিদেই ঝুলিয়ে দিবেন? এতবড় স্পর্ধা আপনাদের হয় কীভাবে? একদিকে কুরআন খতম, অন্যদিকে মসজিদে ছবি টানানো এমন পরস্পর বিরোধী কাজের দ্বারা আপনারা বঙ্গবন্ধুর কত বড় উপকার করলেন তা আমাদের বোধগম্য নয় কিন্তু বেঁচে থাকলে বঙ্গবন্ধু যে আপনাদের এই উপকার(?) কখনোই স্বীকার করতেন না তা হলফ করে বলতে পারি।

আমরা যদ্দুর জানি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মনেপ্রাণে একজন ধার্মিক মানুষ। তাই আমাদের বিশ্বাস, যেভাবে তিনি তাঁর বাবার আদর্শকে বুকে ধারণ করে নিরন্তর দেশের মানুষ ও বিশ্বমানবতার সেবা করার মাধ্যমে  'মাদার অব হিউম্যানিটি' তে ভূষিত হয়ে মূলত তাঁর বাবাকেই দুনিয়ার বুকে মহান থেকে মহানতর করে তুলেছেন, ঠিক তেমনি তাঁর বাবার আখেরাতের জীবনকেও নিষ্কণ্টক রাখার নিমিত্তে বঙ্গবন্ধুর প্রতি অতিভক্তি'র নামে ইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ডকে প্রতিহত করবেন। এই জন্য তাঁর একটি ঘোষণাই যথেষ্ট  বলে আমরা মনে করি।