ভারত বাংলাদেশের বন্ধু বটে, কিন্তু শত্রুর চেয়েও ভয়ংকর

৪৭ এর দেশ বিভাগকে যে যেভাবেই দেখুন, আমরা ইতিবাচক অর্থেই দেখছি এই ভেবে যে, মুসলিমরা অন্তত পাকিস্তান নামে একটি ভূখন্ড পেয়েছিলো। আরো একটি ইতিবাচকতার দিক হলো স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জন করা সম্ভব হয়েছিল শুধু পাকিস্তান হওয়ার কারণেই। 
বলা বাহুল্য, যদি ভারতের অধীনে থাকতো আজকের বাংলাদেশ, তাহলে আমরা দেশের ৯৫% মানুষ শুধু মুসলিম হওয়ার কারণে ধর্মীয় অধিকার তো দূরের কথা, যৎকিঞ্চিত নাগরিক অধিকারও ঠিকমতো পেতাম কি-না সন্দেহ, যেখানে আমাদের চারপাশ ঘিরে থাকতো সংখ্যায় আমাদের থেকে চারগুণ বেশী কট্টর রামবাহিনী।

একবার যুগ যুগ ধরে নির্যাতিত ভারতীয় মুসলিমদের কথাই ভাবুন না! না হয় একটু চিন্তা করুন কাশ্মীরের হতভাগ্য মুসলমানদের কথা। ভারতের সংবিধান হতে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নিয়ে এই ক'দিন আগেই সেখানকার অধিবাসীদের উপর চালানো হয়েছিলো ইতিহাসের বর্বরতম নির্যাতনের স্টিম রোলার। এ কথা হলফ করে বলা যায়, কাশ্মীরের অধিকাংশ মানুষ মুসলিম না হয়ে যদি হিন্দু হতো, তাহলে নিশ্চয় কাশ্মীরের ওই মর্যাদা কেড়ে নেওয়া হোতোনা, সেখানে চলতও না এমন নিষ্ঠুর নিপীড়ন। 

মূলত ভারত সরকার সেদেশে বসবাসকারী কোন মুসলিমকে ভারতের নাগরিকই মনে করেনা, তা সে গুজরাটের মুসলিম হোন অথবা কাশ্মীরের। সেখানে প্রতিবেশি মুসলিম দেশ বা অন্য দেশের মুসলিমদের প্রতি ভারত কেমন আচরণ করবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। 

মিয়ানমারের নির্যাতিত মুসলিমরা যখন আশ্রয় চেয়েছিলো ভারতের, দূর দূর করে তাড়িয়ে দিয়েছে তাদের। সীমানায় বসিয়েছিলো কড়া পাহারা, যাতে মিয়ানমারের জালিম সেনাবাহিনীর হাত থেকে প্রাণ বাঁচাতে কোন মুসলিম ভারতে প্রবেশ করতে না পারে। এমনকি রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত মিয়ানমার সরকারের পাশে থাকবে বলেও ঘোষণা দিয়েছিলো তখন। তার প্রমাণও দিয়েছে তারা। বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে জাতিসংঘের অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে ভোট দেয়নি ভারত। কথায় কথায় বাংলাদেশের বন্ধু হিসেবে নিজেকে জাহির করা ভারত সময়মত ঠিকই পরিচয় দিয়ে দিয়েছে তারা আসলে বাংলাদেশের বন্ধু বটে!

বাংলাদেশ থেকে ট্রানজিট নিয়েছে ভারত, নিয়েছে ফেনী নদীর পানি, বিনিময়ে তিস্তার পানি আটকে দিয়েছে, বর্ষায় ফারাক্কা বাঁধ খুলে দিয়ে বার বার বাংলাদেশকে বানের জলে ডুবিয়েছে; তবুও বাংলাদেশের বন্ধু বটে ভারত!

বাংলাদেশের মংলা বন্দর ব্যবহার করছে ভারত। বিমানবন্দর করার জন্য আরো জমি অধিগ্রহণ করতে চাচ্ছে এদেশের । টনে টনে ইলিশ নিয়েছে ভারত । নিতে যাচ্ছে বিদ্যুৎ ও গ্যাস। বিনিময়ে বাংলাদেশকে উপহার দিয়েছে অসংখ্য ফেলানীর লাশ।আমাদের রাখাল-কৃষকদের ধরে ধরে হত্যা করছে সীমান্তে। তাদের দেশ থেকে বাংলাদেশী অভিবাসীদের বের করে দিতে চাচ্ছে ঘাড় ধরে ধরে। তারপরও বাংলাদেশের বন্ধু বটে ভারত ! 

তবে হ্যাঁ , ভারত বাংলাদেশের বন্ধু বটে, কিন্তু শত্রুর চেয়েও ভয়ংকর।

সুতরাং ভারতের ব্যাপারে আমাদের  ভাবতে হবে নতুন করে । সেই ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতার প্রেক্ষিতে বন্ধুত্বের দোহাই দিয়ে সব কিছু নিতে নিতে  আমাদের না একেবারে দেউলিয়া করে ছাড়ে।